সদ্য প্রয়াত জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামী, সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা মোশাররফ হোসেন স্মরণে জাসদের শোকসভা অনুষ্ঠিত। ১১ জুলাই শনিবার বিকাল ৪টায় নগরীর শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জননেতা সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেনের শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাসদের কার্যকরী সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এড.রবিউল আলম-এর সভাপতিত্বে শোকসভায়টি অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় পরিচালনা করেন জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নইমুল আহসান জুয়েল।
সভার শুরুতে প্রয়াত জাসদ নেতা মোশাররফ হোসেনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, এরপরে দাড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শোকসভায় বক্তব্য রাখেন, ১৯৭০—৭১ সালে ঢাকা মহানগরের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক, জাসদ ঢাকা মহানগরের সমন্বয়ক ও জাসদ সহ—সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, জাসদের সহ—সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সফি উদ্দিন মোল্লা, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা সাইফুজ্জামান বাদশা, ন্যাপ(মোজাফফর)এর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ মোহসীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চুন্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর্জা মো:আনোয়ারুল হক, লক্ষীপুর জেলা জাসদের সভাপতি আমির হোসেন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ—সভাপতি এড. মহিবুর রহমান মিহির, জাসদের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. মো: সেলিম, জাতীয় যুব জোটের সভাপতি শরিফুল কবির স্বপন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সহ—সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি (বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র) রাশিদুল হক ননী, প্রয়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের পরিবারের পক্ষে পুত্র শাহাদাত হোসেন ইমন, বীরমুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জনাব নুরুল আমিন প্রমূখ।
শোকসভায় বক্তারা প্রয়াত নেতা মোশাররফ হোসেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ৬০ দশকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে একজন দক্ষ সংগঠক, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিএলএফ মুজিব বাহিনীর রামগতি-হাতিয়া দ্বীপঞ্চল জোনের কমান্ডার ছিলেন। জাসদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আমৃত্যু সমাজ পরিবর্তনে সংগ্রামের বিপ্লবী নেতা হিসাবে দেশ ও জাতির প্রতি যে অবদান রেখেছেন সেজন্য তিনি চিনস্মরনীয় হয়ে থাকবেন। তারা বলেন, মোশাররফ হোসেন জাতীয় পর্যায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হয়েও সততা ও সহজ সরল জীবন যাপনের অনন্য নজির রেখে গিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রেজিম চেঞ্জের পরে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ধারায় ঠেলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পাকিস্তানপন্থী ভাবধারা এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির পুনরুত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশের জন্মশত্রুরা, চিরশত্রুরা বাংলাদেশকে বেদখল করেছে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জন্মশত্রু, চিরশত্রু, ধর্মান্ধ ফ্যাসিবাদ ও সা¤্রাজ্যবাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করাই এখন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির প্রাথমিক ও প্রধান জাতীয় কর্তব্য। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করায় জাতীয় আন্দোলনের ধারায় মিথ্যা মামলায় প্রতিহিংসামূলক ফরমায়েশি রায়ে কারাবন্দি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ রাজবন্দীদের মুক্তির আন্দোলন এগিয়ে নিতে হবে।
