নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আত্মগোপনে থাকা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা

474472281_2852019498290743_1144835828951168384_n.jpg

নোয়াখালী প্রতিনিধি ।।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের গ্রামের বাড়িতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। আজ ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চর ফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট পূর্ববাজার সংলগ্ন বাড়িতে ওই ঘটনা ঘটে।

দুর্বৃত্তরা এ সময় বাড়ির দ্বিতল ভবনের নিচতলায় মিজানুরের ছোট ভাই রহিম উল্যাহর বাসায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাটের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

বাড়িতে থাকা মিজানুর রহমানের বড় ভাইয়ের জামাতা রাকিবুল ফেরদাউস গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তার চাচাশ্বশুর মিজানুর রহমান ও রহমত উল্যাহ বাড়িতে থাকেন না। থাকেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। আজ (২১ জানুয়ারি) আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসযোগে ১৪-১৫ জনের একদল তরুণ তাঁদের (মিজানুরের) চাপরাশিরহাট–সংলগ্ন গ্রামের বাড়িতে হানা দেয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। দুর্বৃত্তদের কয়েকজন বাড়ির দ্বিতল ভবনের নিচতলায় ঢুকে পড়ে। আর কয়েকজন দ্বিতীয় তলায় মিজানুর রহমানের বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

রাকিবুল ফেরদাউস জানান, দুর্বৃত্তদের কয়েকজন নিচতলায় ঢুকে তার চাচাশ্বশুর রহিম উল্যাহকে খোঁজাখুঁজি করে। তাকে না পেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাটের চেষ্টা করে। এ সময় পরিবারের এক সদস্য কৌশলে ভবনের পেছনের দরজা খুলে বের হয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজনকে এগিয়ে আসতে দেখে দুর্বৃত্তরা দ্রুত মাইক্রোবাসযোগে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং তাঁরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফৌয়জুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। সাবেক ছাত্রনেতা, যুবনেতা এবং বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যন) মিজানুর রহমান বাদল কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যাপক জনপ্রিয় নেতৃত্ব এবং কোম্পানীগঞ্জের সাবেক গডফাদারখ্যাত আবদুল কাদের মির্জার সরাসরি প্রতিপক্ষ হওয়ায় বাদল জনরোষের বাহিরে ছিলো। কিন্তু আগামীতে যারা দক্ষিণাঞ্চলে জনপ্রতিনিধি হতে চায় তারা বাদলকে শক্ত প্রতিপক্ষ ধরে নিয়েছে। ফলে বাদলকে এতদিন পরে এসে টার্গটে করছে। হয়ত এটাই শেষ নয় এমনটা আরো দেখতে হতে পারে।

স্থানীয় জনগণ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়ি কোম্পানীগঞ্জের থানা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানায়েছে এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top