ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি-হুইলার ও অটো রিকশা, নিরাপদ ঈদযাত্রায় শঙ্কা বাড়ছে

buss.jpg

মিয়া মাকছুদ ।।

ঈদুল ফিতরের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। অথচ এই মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ নসিমন, টমটম আর ভটভটি, অটোরিকশা।

তবে সড়কের আয়তন না বাড়ায় মানে আট লাইন না হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই মহাসড়ক হয়েই যেতে হয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে। যেখানে রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দর। ফলে এই মহাসড়কের পুরো রাস্তায় কাভার্ড ভ্যান দখল করে রাখে। এই কাভার্ড ভ্যান গুলো যখন একটা আরেকটাকে ওভারটেক করে তখন যাত্রীবাহী বাসসহ ভিভিআইপি, সিআইপি গাড়িগুলো ১০/২০ কিলোমিটারে চলতে হয়। যাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজের কর্মঘণ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  তার উপর থ্রিহুইলার, অটোরিকশা, ভ্যান গাড়ি বা নছিমন তো আছেই।

ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় যানজটসহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাসহ ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি যাত্রীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। বাস ও ট্রাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ৩ চাকার যান। পৃথিবীর কোথাও মহাসড়কে এইরকম অব্যবস্থাপনা আছে বলে আমার জানা নেই।

মহাসড়কে এইরকম অব্যবস্থাপনার কারণে আহত, নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন শত শত জন। তার উপর ঈদকে ঘিরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রীর চাপ বাড়ায় পরিবহনের সংখ্যাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে থ্রি হুইলার, নসিমন, অটোরিকশা, ভটভটিও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মহাসড়কে।

ঢাকা- বসুরহাট রোডের ডিবি ড্রীম লাইন পরিবহনের চালক বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যাই পথে মহাসড়কে অটোরিকশা যেখানে সেখানে ব্রেক করে এতে আমাদের গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
হেলাল নামের এক ট্রাকচালক বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রি-হুইলারের কারণে আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
ঈদে আবার ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কড় বাস রঙ করে নতুনভাবে নামানো হচ্ছে মহাসড়কে। ঈদযাত্রার নিরাপত্তায় এগুলো নিয়ন্ত্রণের দাবি বাস মালিক সমিতির ।

বসুরহাট-ঢাকা-বসুরহাট রোডের এক ড্রাইভার জানান আমার যে গতিসীমা দেয়া আছে আমি গতিসীমায় গাড়ি টানতে পারলে ঢাকা বা বসুরহাট যেতে আসতে আমার সময় লাগার কথা আড়াই থেকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা। অথচ আমার যেতে হয় চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টায়। কখনো কখনো ৫ ঘন্টাও লেগে যায়। পুলিশ ও চালকরা বলেন, এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ থ্রি-হুইলার, অটোরিকশা ও নসিমন।

এ ছাড়া জেলা সড়কে আরো বেশি যন্ত্রণা। আঞ্চলিক মহাসড়কে চলছে ব্যাটারিচালিত মাহিন্দ্র, সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের তিন চাকার যান। আইন ও নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যান। তিন চাকার ব্যাটারিচালিত যান মহাসড়কে চলার কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। মহাসড়কে তিনচাকার অটো চলাচলের কারণে প্রায়ঃশ দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে তিনচাকার যান চলাচল যেন না করতে পারে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার সড়ক পথে বাড়ছে পরিবহনের সংখ্যা। প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন বিলাসবহুল বাস। কিন্তু তিনচাকার ব্যাটারিচালিত যান মহাসড়কে চলার কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। কোনো রকম নিয়ম কানুন না মেনে এই সব যান চলাচল করছে। এতে মহাসড়কে পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত যান চলাচলে সমস্যার কথা জানিয়ে একধিক পরিবহনের চালক বলেন, ‘মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আমাদের। এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে না পারলে ভোগান্তি কমবে না, সময়ও বেশি লাগবে। সড়কে কোনো সিঙ্গেল না দিয়ে যেখানে সেখানে তারা যাত্রী নিয়ে পাকিং করে দাঁড়িয়ে যায়। এতে আমাদের বড় গাড়ি চালাতে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা তারা মানছে না এদের কারণে প্রতিদিন এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানালেন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।

পুলিশ বলছে, ‘মহাসড়কে আটোবাইকসহ তিনচাকার কোনো গাড়ি চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে কিছু আটোবাইক চলাচল করছে। ঈদকে সামনে রেখে সড়কে অনেক যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং তাদের সর্তক করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top