মেইল আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে ট্রাম্প বেশ কিছু বড় ঘোষণা দেন। তার মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারির কথা বলেছেন। সেই সঙ্গে পানামা খাল আবারও ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ দফায় ক্ষমতা গ্রহণের মধ্য দিয়ে আমেরিকার স্বর্ণযুগে পা দিয়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট।
২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির রাষ্ট্রক্ষমতায় বসলেন ট্রাম্প। ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ এখন থেকে শুরু হলো’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন থেকে সামনের দিনগুলোয় আমাদের দেশ আরও সমৃদ্ধ আর সম্মানজনক অবস্থানে উঠে আসবে। আমার একমাত্র লক্ষ্য হবে, আমেরিকাকে প্রথমে রাখা।
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার করেন ট্রাম্প। বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করা হবে, আমাদের নিরাপত্তা পুনরুদ্ধার করা হবে, পুনরায় ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনা হবে। আমরা একটি গর্বিত, সমৃদ্ধশালী ও স্বাধীন জাতি তৈরি করার লক্ষ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও ধনী রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ বুশ, বারাক ওবামা, ডেমোক্র্যাট নেতা হিলারি ক্লিনটন, সদ্য বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ অনেক রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বাইডেন এবং কমলা হ্যারিসকে বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।
অন্যদিকে ট্রাম্পের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, মেয়ে ইভাঙ্কা, ছেলে এরিক ট্রাম্পসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সও।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রভাবশালী অন্যান্য যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন: যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন,ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস এবং লরেন সানচেজ।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার কিছু পরে শপথ নেন ট্রাম্প। শপথে তিনি সংবিধানকে ‘সংরক্ষণ ও রক্ষা করার’ প্রতিজ্ঞা করেন। শপথ গ্রহণকালে ট্রাম্পের কাছে দুটি বাইবেল দেখা গেছে।
এর মধ্যে একটি তার মায়ের দেওয়া এবং অন্যটি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের ব্যবহৃত বাইবেল বলে জানা যাচ্ছে। ট্রাম্পের কিছুক্ষণ আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রিপাবলিকান নেতা জেডি ভান্স।
দায়িত্ব নেওয়ার পরে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি বেশ কিছু নির্বাহী আদেশ জারি করতে যাচ্ছেন। তার মধ্যে রয়েছে, আমেরিকার দক্ষিণ সীমান্তে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে তিনি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করবেন।
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে যে ‘লাখ লাখ অপরাধী’ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তারা যেখান থেকে এসেছে, সেখানে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন। তার ‘রিমেইন ইন মেক্সিকো’ বা ‘মেক্সিকোতেই থাকো’ নীতি তিনি পুনরায় কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন। সীমান্ত এলাকায় আরও সৈনিক ও জনবল পাঠানোরও ঘোষণা দেন।
পানামা খাল প্রসঙ্গে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা এমন একটা বোকা উপহার, যা আমাদের কখনো তৈরি করাই উচিত হয়নি’। পানামা খাল চীনারা পরিচালনা করছে বলে আবার ভুল অভিযোগ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেন, ‘আমরা এটা চীনকে দেইনি। আমরা আবার এটা ফিরিয়ে নেব। এই মাসের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প একই দাবি করেছিলেন। সেই সময় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথাও তিনি উড়িয়ে দেননি।
নিজের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন নাগরিকরা কথা বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটার প্রমাণ হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি যে, অসম্ভব বলে কিছু বিশ্বাস করা কখনই উচিত নয়। অসম্ভবকে সম্ভব করাটাই আমরা আমেরিকায় সবচেয়ে ভালো পারি।’
বক্তব্যের শেষে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করা বা ভয় দেখানো যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হব না। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত, সার্বভৌম এবং স্বাধীন…ভবিষ্যৎ আমাদের এবং আমাদের স্বর্ণযুগ সবে শুরু হয়েছে।’
আকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বজায় থাকবে বলে জানান নতুন প্রেসিডেন্ট। বলেন, মার্কিন নভোচারীরা মঙ্গলগ্রহে গিয়ে বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনা করবেন।