নোয়াখালী-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুল ইসলাম নির্ভার

Noakhali-5-NM247.jpg

মিয়া মোহাম্মদ মাকছুদ ।।

আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনেকটাই নির্ভার। এখন পর্যন্ত নেই মাঠে কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। অতিতে নোয়াখালী-৫ আসনটি ছিলো ভিআইপি আসন। স্বাধীনতার পর থেকে সব সরকারেই নোয়াখালী-৫ আসনে মন্ত্রীরা প্রতিনিধিত্ব করেছে। ফলে সকল সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতো। এবার ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ছাড়া অন্য কোন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন অনেকটা একপক্ষীয় হচ্ছে।

নোয়াখালী-৫ (কোম্পানীগঞ্জ- কবিরহাট ও সদর আংশিক) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী-সমাজসেবক হেভিওয়েট প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

এছাড়া জামায়াত থেকে নির্বাচন করছেন কেজি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাস্টার বেলায়েত হোসেন। যিনি এর আগে ইউপি নির্বাচন করে বিজয়ী প্রার্থীর কাছে জামানত হারিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে ইসসামী আন্দোলন (চরমোনাই) এর প্রার্থীও আছে। তবে যদি শেষমেষ ইসলামী ব্যানারে ৮ দলীয় জোট হয় সেক্ষেত্রে জামায়েত ও ইসসামী আন্দোলনের প্রার্থী এক জন-ই হবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ পর্যন্ত যদি আওয়ামী লীগ বা তাদের মহাজোটের দলগুলো নির্বাচনে না থাকে সেক্ষেত্রে বিএনপি অনেকটাই হাঁসতে খেলতে লক্ষাধিক ভোটের বেশি ব্যবধানে জয় পাবে ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুল ইসলাম।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও চায়ের আড্ডায়। স্থানীয় ভোটারদের মতে, দৃশ্যত ধানের শীষের  প্রার্থীর পাশাপাশি অন্য সম্ভাবনাময় প্রার্থী না থাকলে নোয়াখালী-৫ আসনের নির্বাচন পানসেই থেকে যাবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি);র দলীয় প্রার্থী ফখরুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। দলের বাহিরেও তর রয়েছে বড় একটা ভোট ব্যাংক। এই আসনের জনপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুর পর থেকে নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির রাজনীতিতে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর ফলে আওয়ামী রোষানলে পড়ে তিনি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় অর্ধশতাধিক মামলার আসামী হন। একাধিক বার কারাগারে যেতে হয়েছে।

বিগত সময়ে তিনি বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। ফখরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের ভালোমন্দের সঙ্গে যুক্ত। দলীয় অবস্থান, নোয়াখালী-৫ আসনে সামাজিক ও রাজনৈতক কর্মকান্ড, ধর্মীয় শিক্ষায় বিশেষ অবদান এবং দলীয় চাঁদাবাজ-দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি মাঠে ভোটারদের মন জয় করেছেন।

নোয়াখালী-৫ আসনের ভোটারা নিশ্চিত হয়েছেন ফখরুল ইসলাম নির্বাচিত হলে এলাকায় চাঁদাবাজী-দখলবাজীদের বিরুদ্ধে কঠোর হবেন। এর ফলে এলাকায় চাঁদাবাজ-দখলবাজরা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

আগামী নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা এমন একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন, যিনি স্থানীয় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ-দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকবেন, যিনি দুর্নীতির ভাগের টাকা নিজের পকেটে নিবেন না। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি ও মৎস্য খাতে টেকসই উদ্যোগ, শান্তিপূর্ণ রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতাসহ শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজ করবেন।

বিগত দিনে নোয়াখালী-৫ আসনের রাজনীতি, কর্মীবান্দব নেতৃত্ব এবং শিক্ষা স্বাস্থ, বেকারত্ব দূরীকরণে বিশেষ অবদানের ক্ষেত্রে বিএনপি প্রার্থী ফখরুল ইসলাম-ই আগামী দিনে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রতিনিধিত্ব করছেন এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top