:নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
২০০৬ সালে বিএনপির ক্ষমতার মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অপব্যবহার করে দলীয় রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রতিবাদে দেশের বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন দানা বাধে। পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রাজপথ উত্তপ্ত হতে থাকে। পরে ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকাররে পরিবর্তন এবং ১/১১’র সরকার ক্ষমতায় আসে।
তৎকালীন আইনমন্ত্রী ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করতে বিচারপতির বয়স বাড়ানো, দলীয় রাষ্ট্রপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন সবমিলিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বির্তকিত হলে পরবর্তী সরকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শে নবম জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিল আনলে সেই বিল পাশ হয়।
উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালে বিএনপি ১৫ ফেব্রুয়ারীর এক দলীয় নির্বাচনের আগে ও পরে আওয়ামী লীগ- জামায়াত- বামদলগুলোসহ তৎকালীন বিএনপি সরকার বিরোধী সকল দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি তুললে সেই সময়ের সরকার ১৯৯৬ সালে বিএনপি ১৫ ফেব্রুয়ারীর এক দলীয় নিরবাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ১৯৯৬ সালেই সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা িবল আনে এবং সংসদে পাশের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হয়।
নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ২৮ মার্চ। সে জন্য সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইনের ২ ও ৩ ধারার মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮ক, ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ নতুন সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি কয়েকটি অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপন ও সংশোধন আনা হয়।
আইনের ২ ধারার মাধ্যমে নতুন ৫৮ক অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়; আর ৩ ধারার মাধ্যমে নতুন ২ক পরিচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়। এই পরিচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্ববাধায়ক সরকার সম্পর্কে বলা ছিল। এ–সংক্রান্ত ৫৮ক অনুচ্ছেদে পরিচ্ছেদের প্রয়োগ; ৫৮খ অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার; ৫৮গ অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন, উপদেষ্টাদের নিয়োগ ইত্যাদি; ৫৮ঘ অনুচ্ছেদে নির্দলীয় তত্ত্বাধায়ক সরকারের কার্যাবলি এবং ৫৮ঙ অনুচ্ছেদে সংবিধানের কতিপয় বিধানের অকার্যকারিতা সম্পর্কে বলা ছিল।
পরে ১৯৯৯ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা একটি রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ রায় দেন।
সেই রায়ে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল থাকে। এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে ২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে (৪: ৩) ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।
এই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী (২০১১ সাল) আনা হয়।
এই সংশোধনী ২০১১ সাল বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল এবং এ-সংক্রান্ত আবেদনের ওপর আজ (২০ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
আজ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ আজ এই রায় দেবেন। আপিল বিভাগের অপর ছয় সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
উল্লেখ্য ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে দেশে সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। আর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। সেই সরকারের প্রধান ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তখন তিনি প্রধান বিচারপতির পদ ছেড়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
