নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন গ্রেফতার

30742057_632348707158433_9180503281078632448_o1.jpg
মিয়া মোহাম্মদ মাকছুদ ।।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ও সর্বশেষ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনের মিঠা আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন কারো ক্ষতি যেমন করেননি তেমনি কারো উপকারেও আসেন নি। সবার কাছেই ভালো থাকার নিরন্তর চেষ্টা ছিলো তার। রাজনীতিতে মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন এক বিরল উদাহরণ।
কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতিতে মুজিববাদী শাহাব উদ্দীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।  ৭০ এর দশকের শেষের দিকে স্থানীয় রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে প্রবাস জীবন-যাপন শুরু করলেও পরে ৯০ এর দশকে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করেন। সাবেক রাজনীতির সুবাদে মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন দুই যুগ পরে এসেও আবারো কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতির অর্থের যোগান দাতা হিসেবে জেলা ও উপজেলার রাজনীতিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠেন।
১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ওবায়দুল কাদেরের জয়ের পিছনে মূল ভুমিকা পালন করেন মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন। তার পর থেকে তিনি দলের অপরিহায্য নেতা হয়ে উঠেন এবং ২০০৯ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে আবারো বিনা ভোটে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হন।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীনের রাজনৈতিক সততা, নীতিবোধ ও জনকল্যাণের প্রতি তার অঙ্গীকার দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। ক্ষমতার দায়িত্বে থেকেও তিনি কখনো ব্যক্তিগত লাভকে অগ্রাধিকার দেননি বরং নিজের আচরণ ও উদ্যোগের মাধ্যমে তা দেখিয়েছেন।
বর্তমান প্রশাসনিক বাস্তবতায় যেখানে রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য থাকে নৈতিক অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ। সেখানে তিনি ছিলেন নির্লোভ জনপ্রতিনিধি। তার ক্ষমতার সময়ে তিন যেমন কারো নূন্যতম উপকারেও আসেন নি তেমনি কারো নূন্যতম ক্ষতিও করেন নি।
জনগণের টাকায় পরিচালিত সরকারি সুবিধা থেকে দূরে থাকা তার ব্যক্তিগত সততার বহিঃপ্রকাশ। তার এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে এক সাহসী ও নৈতিক অবস্থান। দ্বিতীয়বার উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতা গ্রহণ করলেও  প্রথমবার তিনি ভাতাও গ্রহণ করেননি। তবে তার এই সততা বজায় রাখতে গিয়ে তার সময়ে উপজেলা পরিষদ ছিলো পুরোপুরি অকার্যকর। মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন ভালো মানুষ এটা শত্রুরাও স্বীকার করবেন।
অতিথিসেবা:মানুষকে সম্মান দেওয়ার দৃষ্টান্ত ছিলো মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন। তিনি কেবল মানবিকতা নয়, জনসেবার প্রতি নিজের দায়িত্ববোধ স্পষ্ট করেছেন। তার মতে, মানুষকে সম্মান দিলে মানুষ নিজেও দায়িত্বশীল হয় এই বিশ্বাস বাস্তবায়ন করেছেন নিজের কাজের মধ্য দিয়ে।
তার ভালো কাজের মধ্যে অন্যতম তিনি কোম্পানীগঞ্জের একমাত্র মহিলা কলেজের এবং আবু নাছের পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া কোম্পানীগঞ্জের মোশাররফ হোসেন ডায়াবটিক হাসপাতলের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। এগুলো তার উদারতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার সুস্পষ্ট প্রমাণ।
মোহাম্মদ শাহাব উদ্দীন মানুষের উপকার করতে না পারলেও কখনো কাউকে বিপদে ফেলেন নি। রাজনীতিতে হিংসা, প্রতিহিংসা ও প্রতিযোগিতা প্রায়ই সম্পর্ক ও বিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে; কিন্তু মো. শাহাব উদ্দীন বরাবরই এই নেতিবাচক ধারার বাইরে থাকার চেষ্টা করেছেন।
একজন সৎ মানুষের সম্মান রক্ষা সমাজের দায়িত্ব। বর্তমান সময়ে যখন সৎ মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, তখন সমাজ ও প্রশাসনে যারা নীতিবান, তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। অযথা হয়রানি বা মিথ্যা অভিযোগ একজন সৎ ব্যক্তির মতো মানুষের জন্য কেবল অন্যায়ই নয়, সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। তাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং সত্যের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।

আমার জানামতে নোয়াখালী জেলা সমিতির অনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দুই যুগ ধরে অনৈতিকভাবে সমিতিকে কুক্ষিগত রাখা ছাড়া উনার জীবনে খুব একটা মন্দ কাজ নাই।

অনেকের মতে সরকার গত ১৫ মাসের মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিরীহ ভদ্রলোকদের হয়রানী বা অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করছে । মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন’র মতো মিঠা আওয়ামী লীগারদের গ্রেফতারে জনমনে সরকারের ভালো কাজকে প্রশ্নবিদ্ধি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top