৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ছাড়াচ্ছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন

vote-2026-NM-24.jpg

ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ভোটের আগে অনুদান ও সংবর্ধনায় নিষেধাজ্ঞা

বিশেষ প্রতিবেদক ।।

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাজেট ও ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচনে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করেছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। ভোটগ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রের দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে। এ নির্বাচনে ভোটের মাঠে দায়িত্ব পালন করা বিএনসিসি ক্যাডেটদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভোট সামনে রেখে প্রার্থীদেরকে কোনো অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসি।

ভোটের আগে অনুদান ও সংবর্ধনায় নিষেধাজ্ঞা: আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের আগে অনুদান, বরাদ্দ ও সংবর্ধনা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চাঁদা, অনুদান কিংবা উপঢৌকন প্রদান বা এর প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না। ইসির জারি করা ‘নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ প্রকাশ্যে বা গোপনে অনুদান বা উপঢৌকন দিতে কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করতে পারবেন না। একই সময়ে সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কোনো উন্নয়ন বা রাজস্ব প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ফলক উন্মোচনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্বাচনের বাজেট সম্পর্কে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। গণভোট, পোস্টাল ব্যালট ও অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছ ৫০০ কোটি টাকা। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই বরাদ্দ বাড়তে পারে।

বিগত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা। এবারের নির্বাচনে ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ‘এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আগের চেয়ে ব্যয় বাড়বে। এছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণও ব্যয় বাড়ার কারণ। তবে প্রয়োজন অনুসারে এ বাজেট কমতে বা বাড়তে পারে।’

ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: আসন্ন নির্বাচনে সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ভোটারদের জন্য থাকবে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল ২৮ জানুয়ারি বুধবার নির্বাচন ভবনে ভোটকেন্দ্র ও কক্ষের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

আখতার আহমেদ আরো জানান, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। সব মিলিয়ে মোট ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জনে।

বিএনসিসি মোতায়েনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই হবে: নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা বিএনসিসি ক্যাডেটদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাইসহ সাতটি নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত ঐ চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি দায়িত্ব দেওয়ার আগে ক্যাডেটদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ১০ জন করে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম দুই জন করে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন করতে হবে। তবে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে এই সংখ্যা পরিবর্তন করা যাবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, মোতায়েনকৃত কোনো ক্যাডেট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর পক্ষে কিংবা গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণায় অংশ নিতে পারবে না। একইভাবে ভোটারদের কোনো দল, ব্যক্তি বা মতের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করাও নিষিদ্ধ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top